সোমবার ২০শে আষাঢ় ১৪২৯ Monday 4th July 2022

সোমবার ২০শে আষাঢ় ১৪২৯

Monday 4th July 2022

প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

কোভিডে চড়া বাজারদর; টিসিবি এসব কী করছে!

২০২২-০২-২৩

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
দৃকনিউজ

কোভিডে চড়া বাজারদর; টিসিবি এসব কী করছে!

কোভিড পরিস্থিতিতে কমেছে নাগরিকদের আয়, বেড়েছে সংকট। এরইমধ্যে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। এই ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানতে সরকারের হয়ে বাজারে পণ্যের দাম পর্যবেক্ষণ করে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশে (টিসিবি)। বাজারে পণ্যের ঘাটতি মোকাবিলায় এবং পণ্যের মূল্য সহনীয় করতে ন্যায্যমূল্যে পণ্যবিক্রি করে তারা। কিন্তু কোভিডকালে সংস্থাটি বাজারদরের যে হিসাব দিয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। শুধু চালের ক্ষেত্রেই পরিসংখ্যান ব্যুরো ও বাজারদরের সঙ্গে এই ব্যবধান কেজি প্রতি ১২ টাকা পর্যন্ত। এখন প্রশ্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি তাদের উপাত্তে যদি ঠিকঠাক না আসে তাহলে তারা কিভাবে বাজারে ভারসাম্য আনবে!

 

ভোক্তার আয় যেভাবে কমেছে
 

দেশে করোনা মহামারির প্রভাবে জনগণের আয় ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কিভাবে মানুষ টিকে আছে তা জানতে গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের ১৬টি জেলার গ্রাম-শহরের দুই হাজার ৬০০টি পরিবারের তথ্য নিয়ে একটি জরিপ সম্পন্ন করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় সম্পন্ন এ জরিপের ফলাফল গত ৫ মে ২০২১ প্রকাশ করা হয়েছে।
 

জরিপে জানা গেছে, করোনায় নিম্নআয়ের মানুষের আয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যারা আগে আড়াই হাজার থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা আয় করতো মাসে তাদের আয় কমেছে ২২ থেকে ২৮ শতাংশ। এর ফলে দারিদ্র্য ও আয় বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
 

গত এক বছরে ৬২ শতাংশ মানুষ তাদের কাজ হারিয়েছেন। আগে যারা সেবা খাতে ছিলেন তারা অনেকেই চলে গেছেন কৃষি ও শিল্পে। সেবা খাতে এক দশমিক ৫৪ শতাংশ কর্মসংস্থান কমেছে। শিল্পখাতে কর্মসংস্থান তিন দশমিক ৮৬ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি কৃষি খাতে বেড়েছে ১৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। এতে করে কৃষিতে মজুরের সংখ্যা বৃদ্ধি ও আয় সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে। কৃষি শ্রমিক বেড়ে যাওয়ার কারণে চাইলেও বেশি সময় কাজ মিলছে না। কর্মরত কৃষি মজুরের সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা হ্রাস পেয়েছে ৮ দশমিক ১১ ঘণ্টা। শিল্পেও একইভাবে কর্মরত শ্রমিকদের সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা হ্রাস পেয়েছে ৩ দশমিক ৬৪ ঘণ্টা করে। এসব কারণে সারা দেশেই মানুষ বাধ্য হয়ে ব্যয় কমিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।
 

এই সংকট শুধু শহরাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, গ্রামাঞ্চলেও একই অবস্থা। গ্রামে বসবাসরত একজন মানুষের মাসিক আয় কমেছে ১১ দশমিক ৩১ শতাংশ, আর শহরের একজন লোকের মাসিক আয় কমেছে ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। সারা দেশের হিসাবে পুরুষের যেখানে মাসিক আয় কমেছে ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ, নারীর সেখানে কমেছে ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
 

আয় কমেছে প্রায় সব ধরনের মানুষেরই। কৃষিতে নিয়োজিতদের মাসিক আয় কমেছে ১৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ। খুচরা-পাইকারি বিক্রেতা ও যন্ত্রপাতি মেরামত খাতের মানুষের মাসিক আয় কমেছে ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। শিল্প উৎপাদন খাতে নিয়োজিতদের মাসিক আয় কমেছে ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর পরিবহন খাতের শ্রমিকদের মাসিক আয় কমেছে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ৬০ বছরের বশি বয়স্ক ব্যক্তিদের, তাদের আয় কমেছে ১৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। সব মিলিয়ে মানুষের আয় কমেছে ১২ দশমিক ০২ শতাংশ।
 

একই তথ্য উঠে এসেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এর আরেকটি জরিপেও। এতে বলা হচ্ছে, মানুষের আয় কমার ফলে দেশের জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে দুই কোটি ৪৫ লাখ মানুষ। গত ২০ এপ্রিল ২০২১ ‘পভার্টি ডায়নামিকস অ্যান্ড হাউসহোল্ড রিয়েলিটিস' শীর্ষক জরিপে এই তথ্য উঠে আসে।
 

এদিকে আয় কমার ফলাফল নির্দেশ করতে গিয়ে সিপিডির জরিপ বলছে, ৭৮ শতাংশ মানুষ তাদের ব্যয় কমিয়েছেন, ৫২ শতাংশ খরচ কমাতে গিয়ে খাদ্য অভ্যাস কিছুটা পরিবর্তন করেছেন। ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের ঋণের বোঝা বেড়েছে। ঋণ আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। এমনকি কর্মসংস্থানে আছেন এমন ৪০ শতাংশ মানুষ করোনা সংক্রমণের আগের চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আর ৮৬ শতাংশ বলছেন তারা যা আয় করছেন তাতে সন্তুষ্টির জায়গায় নেই।

 

নিয়ন্ত্রণহীন বাজারদর

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো শহরাঞ্চলের জন্য ৪২২টি এবং গ্রামাঞ্চলের জন্য ৩১৮টি পণ্য, খাদ্য বা সেবার দাম আমলে নিয়ে প্রতিমাসে কনজুমারস প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই সূচক) প্রকাশ করে থাকে। এই বাজারদর পর্যবেক্ষণের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২০ সালের মার্চে দেশে প্রথম কোভিড আঘাত হানার পরপর মানুষ আতঙ্কে কেনাকাটা শুরু করে। ফলে সে সময় বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এরপর প্রায় এক বছর গত হলেও পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে তো আসেইনি, বরং আরো বেড়েছে বলেই তথ্য দিচ্ছে পরিসংখ্যান ব্যুরোর সিপিআই সূচক।

 

পরিসংখ্যান ব্যুরোর ভোক্তামূল্য সূচক থেকে দেখা যায়, জাতীয় পর্যায়ে ২০২০ সালের মার্চে এটি ছিল ২৭৬ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট, এক বছর পর ২০২১ সালের মার্চে এসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯১ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে।

 

শহরাঞ্চলে এমনিতেই গ্রামের তুলনায় খাদ্যমূল্য বেশি। গ্রামে যেখানে ২০২০ সালের মার্চে খাদ্যমূল্যের সূচক ছিল ২৯৪ দশমিক ০১, শহরে তা ছিল ৩১৭ দশমিক ১৬। এক বছর পর মার্চ ২০২১-এ গ্রামে খাদ্যমূল্যের সূচক দাঁড়ায় ৩১১ দশমিক ১৪, আর শহরে হয় ৩৩২ দশমিক ৩৯। অর্থাৎ কোভিডের ধাক্কায় গ্রামের মানুষের খাদ্যব্যয় শহুরে মানুষের স্বাভাবিক খাদ্যব্যয়ের সমান হয়ে গেছে।

 

ভোক্তারা বলছেন, কোভিডের শুরু থেকে এ অবধি পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। চাহিদার শীর্ষে থাকা পণ্যগুলোর মূল্যবৃদ্ধি মানুষকে এখন অবধি ভুগিয়েই চলেছে।ভোক্তারা বলছেন, কোভিডের শুরু থেকে এ অবধি পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। চাহিদার শীর্ষে থাকা পণ্যগুলোর মূল্যবৃদ্ধি মানুষকে এখন অবধি ভুগিয়েই চলেছে। রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত নিবাসী গাড়িচালক অরুণ রায় দৃকনিউজকে বলেন, 'করোনা হওয়ার পরে সব জিনিসের ডবল ডবল দাম বেড়েছে। আগে পাঁচ লিটার একতা তেল কিনতাম ৫০০ টাকা, এখন সেটা হয়ে গেছে ৬০০ টাকার উপরে। যেটা ১০০ টাকা লিটারে পাওয়া যেত সেটা ১৪০-এর উপরে কেনা লাগতেছে। পরশুদিন আমি বাজার করলাম, আগের তুলনায় দাম অনেক বেশি। যত হাত বদল করে তত বেশি দাম রাখার চেষ্টা করে।'

 

বাজারদরের ভোগান্তি সম্বন্ধে বলতে গিয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই গাড়িচালক জানান, 'আমি বেতন পাই ২০ হাজার টাকা। আগে বাজার করতাম সপ্তাহে তিনদিন, করি এখন দুইদিন। যেখানে আমি মাছ খেতাম চারদিন সেখানে খাই দুইদিন। যেখানে মাংস খেতাম সপ্তাহে দুইদিন, সেখানে খাই একদিন। এভাবেই চলা লাগছে ভাই, তাছাড়া তো আমি হিসাব মিলাতে পারছি না। বাচ্চার দুধ আগে কিনতাম দুই কেজি, এখন কিনি এক কেজি। আগে (সঞ্চয়) রাখতে পারতাম পাঁচ হাজার টাকা, এখন আমি সেটাও পারছি না। এই অবস্থা হয়েছে আমার।'

 

টিসিবির সেবা নিচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে খিলক্ষেত নিবাসী এই পেশাজীবী জানান, 'টিসিবি রোজার মাসে পেয়েছিলাম, কোনো মাসে আবার যখন যাই, লাইনে দাঁড়াতে দাঁড়াতে শেষ হয়ে যায়। কিছুটা পাই কিছুটা পাই না। কখনো দেখা যায় বিশাল বড় সিরিয়াল, (দাঁড়িয়ে) থাকতে থাকতে শেষ হয়ে যায়। আর এখন তো রোজার মাস নাই, এখন আর টিসিবি খুঁইজাও পাওয়া যাচ্ছে না।

 

দেখার দায়িত্ব যাদের, তারা যা করছে

 

বাজারে ভোক্তার সুরক্ষার জন্য বাজারদর নিয়ন্ত্রণে থাকা দরকার। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এই বাজারদর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? বাজারদর পর্যবেক্ষণে সরকারের নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান হলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ভুক্ত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সংস্থাটি বাজার পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জরুরি পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে নিজেরাই ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করে।

 

কোভিডের মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে সংস্থাটির দায়িত্ব ছিল বেশি। অন্যসব সংস্থার কাজ যখন এ সময়ে প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছিল, তখন টিসিবির মতো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও কাজ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই দায়িত্ব তারা কতটা পূরণ করতে পেরেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।

 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাজার পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে টিসিবির অনুসৃত পন্থা পণ্যমূল্যের সঠিক চিত্র তুলে আনতে পারছে না। টিসিবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে পণ্যমূল্য বাস্তবের চেয়ে কম দেখানো হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমের বাজারদর সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তথ্যগুলোর সঙ্গে টিসিবির বাজারদরের অসঙ্গতি ব্যাপক। এমনকি তথ্য উপাত্তের জন্য দায়িত্বশীল সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বাজারদর পর্যবেক্ষণের সঙ্গেও মিলছে না টিসিবির হিসাব।

 

সাধারণত টিসিবি বাজারদর হাজির করার সময় সুনির্দিষ্ট দাম না দিয়ে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্যের একটি হিসাব দেয়। ঢাকার বাজারে ৩০ এপ্রিল ২০২০-এ সরু চালের দাম দিয়েছে তারা ৫৮-৬৮ টাকা। বাজারে চালের কেজি দুই টাকা বাড়লেই যেখানে বাজার অস্থির হয়ে পড়ে সেখানে ১০ টাকার ব্যবধান যে বাজারের উত্থান পতনের চিত্রকে তুলে ধরতে পারে না, তা সহজেই অনুমেয়। এছাড়া সরু চালের সর্বনিম্ন দাম ওইদিন ৫৮ টাকা ছিল বলে উল্লেখ করা হলেও পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে সেই দামটা ছিল ৭০ টাকা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসা বাজারের চিত্রেও এত কম দামে কোথাও সরু চাল মিলছে বলে জানা যায় না।

তারিখ

পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান

পণ্যের দাম (৳)

পণ্যের নাম (প্রতি কেজি)

 

এপ্রিল ২০২০

টিসিবি

৫৮

 

পরিসংখ্যান ব্যুরো

৭০

সরু চাল

সংবাদমাধ্যম (যুগান্তর)

৬৫

 

 

এপ্রিল ২০২০

টিসিবি

৪০

মোটা চাল

পরিসংখ্যান ব্যুরো

৫২

সংবাদমাধ্যম (যুগান্তর)

৫০

 

এপ্রিল ২০২০

টিসিবি

৩২

আটা

(প্যাকেট)

পরিসংখ্যান ব্যুরো

৪০

সংবাদমাধ্যম (বণিকবার্তা)

৩৬

 

এপ্রিল ২০২০

টিসিবি

২৭

ডিম

(ফার্ম ১ হালি)

পরিসংখ্যান ব্যুরো

৩৩.৮৬

সংবাদমাধ্যম (বণিকবার্তা)

৩৬.৫০

 


 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে টিসিবি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব হুমায়ুন কবির বলেন, ‘টিসিবি ঢাকা সিটির ১৭টি মার্কেট পর্যবেক্ষণ করে সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ রেঞ্জের মাধ্যমে এই মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। তবে পরিসংখ্যান ব্যুরো কিভাবে এটি করে থাকে তা জানা নেই। আমরা আমাদের তথ্য নিয়ে কনফিডেন্ট।’
 

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টিসিবি যদি বাজারে পণ্যের দাম কম ধরে বা তারা যদি পণ্যের দাম কম দেখে, তাহলে পণ্যের দাম বেড়েছে, বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, এটা তারা কেন মেনে নেবে! যদি তারা মনে করে বাজারে অস্থিরতা নেই, তাহলে ন্যায্যমূল্যে পণ্যবিক্রির কর্মসূচিও তো গতি পাবে না।
 

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ক্যাবের সাধারণ সম্পাসক এডভোকেট হুমায়ুন কবির দৃকনিউজকে বলেন, 'আমরা মনে করি টিসিবি যে রেটটা (দর) দেবে, এই রেটটার সঙ্গে বাজারের সম্পর্ক থাকার দরকার রয়েছে। যদি সামঞ্জস্য না থাকে, তাহলে টিসিবির কাছে আমরা যাব কেন?'
 

আপনাদের মাধ্যমে আমরা টিসিবিকে অনুরোধ করব, কোভিডে একটি সংকটকালীন মহামারী অবস্থা চলছে, সুতরাং এই সময়েও তাদের রোজার মাসে যেভাবে জনগকে সেবা দেয়ার জন্য বাজারে ন্যায্য মূল্যে দ্রব্য সরবরাহ করার চেষ্টা করেছে, আমরা মনে করি কোভিড যতদিন আছে, ততদিন এরকম একটা প্রোগ্রাম চালু রাখার দরকার আছে।
 

ভোক্তাদের পক্ষ থেকে ক্যাব কখনো টিসিবির সেবা উন্নয়নের জন্য বিশেষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ভোক্তা অধিকার আন্দোলনের এই নেতা বলেন, 'এটা তো আমরা সবসময় বলেই থাকি। লিখিতভাবে দায়ের করিনি, কিন্তু আমরা বলেছি।'