শুক্রবার ৩০শে মাঘ ১৪৩২ Friday 13th February 2026

শুক্রবার ৩০শে মাঘ ১৪৩২

Friday 13th February 2026

সংবাদ বিশ্লেষণ

কারারুদ্ধ অবস্থায় পৃথিবীর মুক্ত মানুষদের জন্য থিয়াগোর চিঠি

২০২৫-১০-০৮

দৃকনিউজ ডেস্ক

কারারুদ্ধ অবস্থায় পৃথিবীর মুক্ত মানুষদের জন্য থিয়াগোর চিঠি

দুনিয়াজুড়ে ফিলিস্তিনের কন্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন ব্রাজিলিয়ান অ্যাক্টিভিস্ট থিয়াগো আভিলা। গত ২ অক্টোবর ২০২৫, ভূমধ্যসাগরে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র নৌবহর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক আটকের পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ও ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে গত ৩১ সেপ্টেম্বর স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিলো সুমুদ ফ্লোটিলা। ইসরায়েলের কারাগারে কারারুদ্ধ ও নিপীড়িত অবস্থায় পৃথিবীর মুক্ত মানুষদের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখেছেন থিয়াগো আভিলা। গত ৭ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তার ইন্সট্রাগ্রাম ভেরিফায়েড প্রোফাইল থেকে ইসরায়েলি কারাগারে বসে লেখা চিঠিটি পোস্ট করেন তিনি।

 

দৃকনিউজের পাঠকদের জন্য এর বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করা হলো।

 

থিয়াগো আভিলা

 

পৃথিবীর মুক্ত মানুষদের উদ্দেশ্যে-

 

আজ সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫ এবং আমরা এখন অধিকৃত ফিলিস্তিনের নেগেভ মরুভূমির মাঝখানে অবস্থিত Ktzi’ot কারাগারে আছি। আমরা এখানে ৫ দিন ধরে আছি। কারণ ইসরায়েলি নৌবাহিনী আমাদের মানবিক, অহিংস, সংহতির যাত্রাকে বাধা দিয়েছে, আমাদের লক্ষ্য ছিল গাজার অবৈধ অবরোধ ভেঙে, একটি মানবিক করিডোর তৈরি করা যা দুর্ভিক্ষের অবসান ঘটাতে পারে এবং গণহত্যা বন্ধ করার স্বার্থে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

 

আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবৈধ আক্রমণের পর থেকে আমরা অনেক সহিংসতার শিকার হয়েছি। আমাদের অনেককেই শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, কুকুর দিয়ে হুমকি, ঘুমাতে না দেয়া, লেজার ও লাইভ শটগান দ্বারা লক্ষ্যবস্তু করা থেকে শুরু করে ঘন্টার পর ঘন্টা যন্ত্রণাদায়ক অবস্থানে রাখা, এবং আমাদেরকে যেখানে রাখা হতো সে স্থানগুলোতে তাপ সঞ্চালন করে উত্তপ্ত করা, প্রায় সব ধরনের মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।

 

যেহেতু তারা জানে যে আমি এই মিশনের (গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা) একজন সংগঠক, তারা শুধু সেইসবই করেনি, তারা আমাকে গোয়েন্দা অফিসারদের সাথে, এমনকি আইওএফের (ইসরয়েলি অকুপেশন ফোর্স) সাথেও দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিলো। ফিলিস্তিন প্রশ্নে আমি আমার অবস্থান ধরে রাখার কারণে তারা আমার শিশু কন্যাকে নিয়ে ক্রমাঅত হুমকি দিতে থাকে। ইসরায়েলি সৈন্যরা আমার মুখে থুথু ফেলে এবং আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে উত্তপ্ত মরুভূমিতে ‘হাঁটানোর’ জন্য ধরে নিয়ে যায়।

 

আমি এইসব তথ্য উল্লেখ করছি, অভিযোগ করার জন্য নয়, বরং পৃথিবীকে জানাতে চাই- তারা যদি মানবাধিকারকর্মীদের সাথে এমন আচরণ করে থাকে, তাহলে কল্পনা করুন তারা ফিলিস্তিনিদের সাথে কি হচ্ছে!  এসময়ে ইসরায়েলি কারাগারে ১০,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছে, যাদের মধ্যে ৪০০ জন শিশু আছে।

 

এই যাত্রার (গাজাগামী ফ্লোটিলা) অংশগ্রহণকারী সকলেই শুরু থেকেই অত্যন্ত সাহসী ছিলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত  তাদের নির্বাসনের জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে। আমরা কখনোই ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন’ বলা বন্ধ করিনি এবং এখানের (ইসরায়েলি বাহিনীর) সকল সহিংসতা আমাদের মনোবলকে কখনোই হারাতে পারেনি। যখন তারা আমাদের ডায়াবেটিক আক্রান্ত অংশগ্রহণকারীদের ওষুধ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন আমরা বিদ্রোহ করেছিলাম এবং এতটাই প্রতিরোধ তৈরি করেছিলাম, যা তাদের তা মেনে নিতে হয়েছিল।

 

ইন্সট্রাগ্রামে পোস্ট করা ছবিগুলোতে লক্ষ্য করা যায়, উপড়ে উল্লেখিত এই চিঠি, দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া সাদা কাগজে, নীল রঙের কলমে লিখেছেন থিয়াগো আভিলা। এই মুহুর্তে নিজ দেশ ব্রাজিলে, নিজ পরিবারের সাথে অবস্থান করছেন তিনি।

 

এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে, ত্রান ও চিকিৎসা সামগ্রী বহনকারী নৌবহর আভিলা ম্যাডলিনেও অংশ নিয়েছিলেন থিয়াগো আভিলা। সেসময়েও গাজাগামী সকল অ্যাক্টিভিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীদের সাথে আটকের শিকার হয়েছিলেন এই অ্যাক্টিভিস্ট।