রবিবার ৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ Sunday 22nd May 2022

রবিবার ৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

Sunday 22nd May 2022

প্রচ্ছদ

প্রচলিত আইনে ক্ষতিপূরণ সম্ভব না: পুলিশের গুলিতে পঙ্গু কাঞ্চন

২০২২-০২-১৫

দৃকনিউজ প্রতিবেদন

প্রচলিত আইনে ক্ষতিপূরণ সম্ভব না: পুলিশের গুলিতে পঙ্গু কাঞ্চন

 

ঈদের ছুটি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে গিয়েছিলেন কাঞ্চন। পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে বরণ করেছেন পঙ্গুত্ব। দীর্ঘ ২৬ দিন চিকিৎসার পর অবশেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিনি। হাসপাতাল ছাড়ার যাওয়ার সময় তিনি দাবি করেন, পুরো চিকিৎসায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা খরচ হলেও সরকার ও মালিকপক্ষ মিলে দিয়েছে মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। চিকিৎসার খরচটুকুই এখনো তিনি বুঝে পাননি। কাঞ্চন মিয়া মনে করেন, তার যে ক্ষতি হয়েছে প্রচলিত শ্রম আইনে তা পূরণ অসম্ভব।

 

শনিবার ৫ জুন ২০২১ বিকাল সাড়ে তিনটায় ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে কাঞ্চন ও তার স্বজনরা একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় তিনি তিনটি দাবি তুলে ধরেন। 

 

কাঞ্চন মিয়ার প্রথম দাবি হলো, তার প্রতি ঘটা অন্যায়ের বিচার ও দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, তার চিকিৎসা বাবদ হাসপাতালে গত ৪ জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা খরচ হলেও এখন পর্যন্ত সরকার আর মালিকপক্ষ মিলে তার চিকিৎসার খরচটাও পুরোপুরি বহন করেনি। সরকার ও মালিকপক্ষ এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়েছে চিকিৎসা বাবদ। ফলে এখনও শুধু এই দফাই হাসপাতালের চিকিৎসা বাবদ সরকার ও মালিকপক্ষের কাছ থেকে তার পাওনা ৪৫ হাজার ৩০০ টাকা। তিন মাস পর তার আবার অপারেশন হবে। তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যতের এই সংক্রান্ত চিকিৎসার সমুদয় খরচ সরকার ও মালিকপক্ষকে বহন করার দাবি জানান।

 

কাঞ্চন মিয়ার তৃতীয় দাবিটি ক্ষতিপূরণ বিষয়ক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রচলিত শ্রম আইন দিয়ে আমার ক্ষতিপূরণ করা যাবে না। কারণ আমি কোনো দুর্ঘটনায় আহত হইনি। ফলে ক্ষতিপূরণ হিসাব করতে গেলে আমার শারীরিক ক্ষতি, মানসিক ক্ষতি, সম্মানহানিজনিত ক্ষতি এবং আমি যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত হইনি ঠান্ডা মাথায় গুলি চালানোতে আহত হয়েছি সেটা, আমার পাঁচ সন্তানের ভবিষ্যত, তাদের অন্তত আগামী ২০ বছরের ভরণপোষণ, পরিবারের ভরণপোষণ, পুনর্বাসন, এই সবকিছু বিবেচনায় নিলে আমার ক্ষতিপূরণ অন্তত ১ কোটি টাকা হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আমি এটি দাবি করি আমার ক্ষতিপূরণ হিসেবে।’

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, কাঞ্চন মিয়ার শ্যালক মো. খোরশেদ। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন কাঞ্চন মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম এবং ছেলে মুস্তাকিম। তারা সকলেই নায্য ক্ষতিপূরণ, বিচার ও কাঞ্চন মিয়ার সুচিকিৎসা দাবি করেন।

 

এসময় সেখানে উপস্থিত থেকে সংহতি বক্তব্য রাখেন, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সবুজ এবং গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ। সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবির, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মাইনুদ্দিন, ছাত্র ইউনিয়নের নেতা অনীক রায়সহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

 

কাঞ্চন মিয়ার শ্যালক মো. খোরশেদ বলেন, ‘শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, মেহনতিদের সম্মান ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায়, মানুষ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অধিকার পাওয়ার প্রত্যাশায় আজ আমরা আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। সংবাদ সম্মেলনের পর আমরা বাড়ি গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো। ক্ষতিপূরণ পেলে আমরা আর কোনো কর্মসূচিতে যাব না। আর কোনো সুরাহা না হলে সমস্ত আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে ঢাকায় আসবো। শ্রম মন্ত্রণালয়ে যাবো, কারখানা ঘেরাও করবো।’

 

কাঞ্চন মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী নিরপরাধ, অথচ তাকে পুঙ্গু করে দেয়া হলো। তার সঙ্গে যে অবিচার হয়েছে, তার ন্যায্য বিচার চাই। যে শ্রমিক ভাইদের অধিকারের জন্য আমার স্বামীর অবস্থা, তাদের কাছে দাবি করি, আমি যেন ন্যায্য বিচার পাই। আমার পরিবারে আট জন মানুষ। কিভাবে এদের মানুষ করবো। আমাদের ভবিষ্যত কী হবে, আমরা পরিপূর্ণ ক্ষতিপূরণ চাই।’

 

প্রসঙ্গত, ঈদের আগে করোনা সংক্রমণ রোধে শ্রমিকদের তিন দিনের ছুটি দিতে শিল্পকারখানার মালিকদের প্রতি আহ্বান জানায় সরকার। ১০ মে ঈদের ছুটি বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় অবস্থিত হা-মীম গ্রুপের ক্রিয়েটিভ কালেকশনের শ্রমিকরা আন্দোলন করেন। এসময় বিনা উসকানিতে পুলিশের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত ১২ জন শ্রমিক আহত হন, তারা সবাই হা-মীম গ্রুপের কর্মী।