মঙ্গলবার ১৯শে আশ্বিন ১৪২৯ Tuesday 4th October 2022

মঙ্গলবার ১৯শে আশ্বিন ১৪২৯

Tuesday 4th October 2022

আন্তর্জাতিক দক্ষিণ এশিয়া

পাকিস্তানে বিপর্যয়কর বন্যা: বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আর শাসকদের দুর্নীতি, কার দায় কতটুকু

২০২২-০৯-০৩

দীপান্বিতা কিংশুক ঋতি

“এটা খুবই অন্যায় যে, বিশ্বের ১% এরও কম গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের জন্য যে দেশ দায়ী, তাকে জলবায়ু বিপর্যয়ের ফল চরমভাবে ভোগ করতে হচ্ছে।”

                                                                                    – পাকিস্তানি সিনেটর মুস্তফা নওয়াজ খোকার।

 “এ বছর পাকিস্তান ক্রমাগত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে: অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, এবং এখন প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এর সবকিছুর মূলেই রয়েছে রাজনৈতিক সংকট।”

                                                                                      – বৈদেশিক নীতি গবেষক মাদিহা আফজাল।

 

 

ইসলামাবাদে সন্তান ও সম্বল বুকে-মাথায় নিয়ে আশ্রয়ের খোঁজে একটি পরিবার। ছবি- পাকিস্তান টুডে

 

 

শুরুর উদ্ধৃতি দুটোতেই খুব পরিস্কার, পাকিস্তানের বন্যার বিপর্যয়কর পরিস্থিতির কারণ নিয়ে দুটো মত রয়েছে। প্রথম মতটিতে সন্দেহাতীতভাবেই কোন ভুল নেই। এই মতটা অনুযাযী পাকিস্তানের মত দরিদ্র দেশগুলো ধনী দেশগুলোর কাজের ফল ভোগ করছে। দ্বিতীয় মতটি প্রথম মতটিকে অস্বীকার করে না। কিন্তু সাথে সাথে এটাও বলতে চায় যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো দরিদ্র দেশগুলোতে বহুগুন বেশি বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসে শাসকদের দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং বিশ্ব দরবারে নিজেদের স্বার্থরক্ষায় অনীহার কারণে। আমাদের এই লেখায় এই দুটো কারণকেই দেখার চেষ্টা করবো। তার আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাম্প্রতিক বন্যার কিছু চিত্র দেখে নেয়া যাক।

 

মৌসুমি বৃষ্টির ফলে পাকিস্তানে এ বছর অদৃষ্টপূর্ব মাত্রার বন্যা হয়েছে পাকিস্তানে। লক্ষ লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে, অজস্র সড়ক, সেতু ও ভবন ধ্বসে পড়েছে এবং দেশের বিরাট অংশ তলিয়ে গেছে পানির নিচে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, এটি পাকিস্তানের ইতিহাসে ভয়াবহতম বন্যা। কাবুল ও সিন্ধু নদের তীরবর্তী এলাকায় বন্যা এবং ভূমিধসে ইতিমধ্যেই মৃত্যুর সংখ্যা বারোশো ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণের বালুচিস্তান এবং সিন্ধু অঞ্চল। খাইবার পাখতুনখার পার্বত্য অঞ্চলেও প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বছরের বন্যা স্পষ্টতই পাকিস্তানের ২০১০ সালের বন্যার করাল চেহারা মনে পড়ায়। সে বছর বন্যার কারণে ২০০০ এরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলো।

 

৩০ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বন্যায় বিপুল প্রাণহানির পাশাপাশি ৩ লাখ ২৫ হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো ৭ লক্ষ ৩৩ হাজার ঘরবাড়ি । ৭ লক্ষ ৩৫ হাজার গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০ লাখ একরেরও বেশি জমির ফসল। শতাধিক সেতু এবং প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার রাস্তা ভেঙে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রেকর্ড করেছে ডব্লিউএফপি। জাতিসংঘের ধারণা অনুযায়ী, প্রতি সাতজন পাকিস্তানির একজন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর আগে এ বছর পাকিস্তানে প্রচণ্ড দাবদাহ দেখা গেছে।

 

এ তো গেলো সংখ্যার হিসাব। মানুষ সংখ্যা নয়, একেকটি সংখ্যার পেছনে আছে অজস্র সর্বনাশের গল্প, হারানোর বেদনা, সব হারালেও যে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে যেতে হয় সেই নিদারুণ সত্য। সংখ্যার পেছনের মানুষগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁদের অনেকে ভেসে থাকার জন্য রাবার টিউবের ওপর ভরসা করে আছেন, কেননা সে মুহূর্তে ভেসে থাকা মানেই বেঁচে থাকা।  শিশুপুত্রকে কাঁধে নিয়ে উত্তরের শহর নওশেরার বাবুর্চি ইমাদুল্লাহ বিবিসি নিউজকে বলেন, “আমাদের আর কিছুই থাকলো না। সন্তানদের জীবন ছাড়া কিছু বাঁচাতে পারলাম না আমরা।” তার জিনিসপত্র স্তূপীকৃত হয়ে ডুবে আছে কাদা-পানির তলায়, ওগুলো আর ব্যবহারের উপযুক্ত নেই।

 

পানিতে তলানো ঐ রাস্তাটা ধরেই আরেকটু এগোলে নওশেরায় বিবিসি নিউজের প্রতিবেদক সেকান্দার কেরমানি দেখা পেয়েছেন দুজন নারীর, যাঁরা পরস্পরকে ধরে রেখে পানির তোড়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছেন। পানি এখানে বেশি গভীর। তবুও বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। একজন বলেন, “আমরা জানি না বাড়িটা এখনও আছে না ধসে পড়েছে। জানি না কীভাবে আবার ঘর ওঠাবো। আমরা একটা স্কুলে ক্যাম্পে আছি। আল্লাহ জানেন, আমাদের কোনো টাকাপয়সা বাকি নেই।”  বহু মানুষ ত্রাণ শিবিরে বাস করছে, অনেকে বাস করছেন রাস্তার ধারে তাঁবু খাটিয়ে। তাতে নিজেদের বাড়িটা অন্তত চোখে দেখা যায়, মনকে বোঝানো যায়, একদিন ফেরা হবে। সাত সন্তানের মা রোজিনা এ প্রতিবেদককে বলেন, ”বলে বোঝাতে পারবো না কতোটা কষ্ট হচ্ছে।”

 

অনেক জায়গায় বর্ষণ থামলেও ধ্বংসলীলা শেষ হয়নি। উত্তরের ঢল দক্ষিণেও এসে পৌঁছেছে, বিস্তৃত ভূ-অঞ্চল তলিয়ে গেছে জলে। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সিন্ধু প্রদেশের সায়ীদাবাদে বহু মানুষ বাস করছেন একটি নুড়িপাথরের রাস্তায়। রাস্তা শেষ হলেই কোমর-সমান পানি। দূর থেকে বাসিন্দাদের বাড়ি দেখা যায়। পানি সেখানে জানালা পর্যন্ত পৌঁছেছে। পনেরটি শিশু পরিবেষ্টিত হয়ে বসে আছেন বানুল। কয়েকটি তাঁর নিজের সন্তান, কয়েকটি তাঁর ভাই-বোনেদের। তিনি বিবিসি প্রতিবেদক পুমজা ফিহলানিকে বলেন, “কয়েক সপ্তাহ ধরে এখানে থাকছি। কোনো ঘর নেই, আমাদের সবার জন্য শুধু একটা তাবু। জীবনটা ছাড়া কিছুই বাঁচাতে পারলাম না। আমরা ছিলাম কৃষক। আমাদের তুলা ছিলো, ভুট্টা ছিলো। সবই ঠিকঠাক ছিলো- পানিটা আসলো আর সব শেষ। আমাদের কিছু নেই, কোনো খাবার নেই।”

 

নোংরা, কর্দমাক্ত এই রাস্তার শেষে আছে শুধু আদিগন্তবিস্তৃত পানি। কোনো রাস্তা বা মাটি নেই। অনেক সময় টানা কয়েকদিন কোনো খাবার জোটে না। খাবারের ট্রাক আসলে মুহূর্তেই সব ফুরিয়ে যায়, তবু সবাই খাবার পায় না।

 

 

দুর্যোগপ্রবণ পাকিস্তান

বন্যাই একমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় যা পাকিস্তানকে বিপর্যস্ত করে, এবং এ বছরের বন্যাই দেশটির একমাত্র ভয়াবহ বন্যা নয়। বন্যা ছাড়াও পাকিস্তান ভূমিকম্প, খরা এবং ঘূর্ণিঝড়প্রবণ দেশ। ভারী বর্ষণ এবং দুর্ভিক্ষের সাথেও সুপরিচিত দেশটি। গত ১৭ বছরে পাকিস্তানের বড় মাত্রার প্রাকৃতিক দুর্যোগ দুটি- ২০০৫ এর ভূমিকম্প এবং ২০১০ এর বন্যা। ২০০৫ এর ভূমিকম্প সাড়ে তিন মিলিয়ন মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ২০১০ এর বন্যার ভুক্তভোগীর সংখ্যা বিশ লাখের বেশি।

 

 

 

সোয়াত উপত্যকায় বন্যাবিপর্যস্ত একটি রাস্তা পেরিয়ে যাচ্ছেন বাসিন্দারা। ছবি: এএফপি

 

 

১৯৯৫ থেকে ২০১০ পর্যন্ত প্রত বছরই বন্যাক্রান্ত হয় পাকিস্তান। এই বন্যাগুলো সব মিলিয়ে ক্ষতি করেছিলো ৬,১৫,৫৫৮ বর্গ কিলোমিটার ভূমির। ১৩, ২৬২ জন মানুষ মারা যান সব মিলিয়ে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ৩৯ বিলিয়ন রূপিরও বেশি ক্ষতি হয়। বিশেষত সিন্ধু প্রদেশে বন্যার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। ১৯ এবং ২০ শতকে অঞ্চলটিতে অন্তত আঠারোবার বন্যা হয়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে অকস্মাৎ বন্যাও এখানকার নিয়মিত ঘটনা। এখানে লক্ষ্যণীয় যে, প্রদেশটির এক শতাব্দীরও পুরনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইতিহাস থাকলেও স্বাধীনতা পরবর্তী কোনো সরকারই বারবার ঘটতে থাকা এই দুর্যোগের দিকে মনোযোগ দেয়নি এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

 

বালুচিস্তানে নিজের ধসে পড়া মাটির বাড়ির সামনে এক ব্যক্তি। ছবি: এএফপি

 

 

১৯৯৫ থেকে ২০১০ পর্যন্ত প্রত বছরই বন্যাক্রান্ত হয় পাকিস্তান। এই বন্যাগুলো সব মিলিয়ে ক্ষতি করেছিলো ৬,১৫,৫৫৮ বর্গ কিলোমিটার ভূমির। ১৩, ২৬২ জন মানুষ মারা যান সব মিলিয়ে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ৩৯ বিলিয়ন রূপিরও বেশি ক্ষতি হয়। বিশেষত সিন্ধু প্রদেশে বন্যার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। ১৯ এবং ২০ শতকে অঞ্চলটিতে অন্তত আঠারোবার বন্যা হয়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে অকস্মাৎ বন্যাও এখানকার নিয়মিত ঘটনা। এখানে লক্ষ্যণীয় যে, প্রদেশটির এক শতাব্দীরও পুরনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইতিহাস থাকলেও স্বাধীনতা পরবর্তী কোনো সরকারই বারবার ঘটতে থাকা এই দুর্যোগের দিকে মনোযোগ দেয়নি এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

 

জলবায়ূ সঙ্কট ও পাকিস্তানের বন্যা

অনেকের মতে, পাকিস্তানকে অন্যায্যভাবে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের দায়িত্বজ্ঞানহীন পরিবেশ পরিপন্থী চর্চার ফল ভোগ করতে হচ্ছে। শুরুতে উল্লেখিত সিনেটর মুস্তফা নওয়াজ খোকারের উক্তিটি এখানে প্রাসঙ্গিক। পশ্চিমের এই বিলাসিতার শিকার শুধু পাকিস্তানই নয়। পৃথিবীর নিচুতম দেশ মালদ্বীপের উচ্চতম স্থানের উচ্চতা মাত্র ২.৪ মিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠের চাইতে মাত্র এক মিটার উঁচু হওয়ায় দেশটি সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে। অতি নগণ্য ইকোলজিকাল ফুটপ্রিন্ট আর প্রায় কার্বন-নিউট্রাল ব্যবস্থাপনা থাকা সত্ত্বেও এ দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দিকে রয়েছে।। জলবায়ু পরিবরতন এর দ্বীপগুলোকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি করে তুলেছে। ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা প্রবালপ্রাচীরগুলোর ক্ষতি করছে, যার ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে। এ দেশের অর্থনীতির অন্যতম একটি মেরুদণ্ড পর্যটন শিল্প। দেশের সৌন্দর্য ধীরেধীরে হারিয়ে যেতে থাকলে দর্শনীয় স্থান এবং অর্থনীতির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়বে।

 

 

পানি থেকে বাঁচিয়ে রেশনের খাবার নিয়ে যাচ্ছে পেশোয়ারের একটি ছেলে। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

 

 

ফিরে আসি পাকিস্তানে। পাকিস্তানও কী মালদ্বীপের মতই কেবল বৈশ্বিক উ্ষ্ণতার শিকার? অনেকেই এদিকটাতেই গুরুত্ব দেন। বেসরকারি সংস্থা জার্মান এনজিওর সবচেয়ে জলবায়ু ঝুঁকির তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান অষ্টম। সিনেটর মুস্তফা নওয়াজ খোকার বলেন, মেরু অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানেই সবচেয়ে বেশি হিমবাহ আছে। এ বছর ভারী বর্ষণের পাশাপাশি দেশের উত্তরে হিমবাহ গলার মতো ঘটনা ঘটেছে, যার কারণ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।

 

নওয়াজ খোকার আরো বলেন, “পেরুর একজন কৃষক পেরুর হিমবাহ গলনের দায়ে জার্মান কোম্পানি আরডব্লিউই এর বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টান্তমূলক মামলা দায়ের করেছেন। পৃথিবী জুড়ে শিক্ষাবিদ এবং আইন বিশেষজ্ঞরা এ মামলার রায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। যদি কোনো আইনী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে পাকিস্তানেরও সেই পথেই হাঁটা উচিৎ।”

 

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শেরি রহমানও বলেন, পাকিস্তান সারা বিশ্বের মোট গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের মধ্যে ১% এরও কম গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী। তিনি বলেন, “আমাদের ফুটপ্রিন্ট এতো কম… অনেক দেশ আছে যারা জীবাশ্ম জ্বালানির মাধ্যমে ধনী হয়েছে। এই সত্য স্বীকার করতে হবে। এখন জলবায়ু পরিবর্তনের সময় এসেছে এবং আমাদের প্রত্যেককেই পদক্ষেপ নিতে হবে, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বৃহত্তর দায় তাদের।” একই সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মন্ত্রী আহসান ইকবাল বলেন, “পশ্চিমে মানুষ আরামে জীবন কাটাচ্ছে, যার মূল্য দিচ্ছে এখানকার মানুষ।”

 

 

নোংরা পানিতে ইসলামাবাদে মানুষ ও যানবাহনের চলাচল। ছবি: এনডিটিভি

 

 

ভারী বর্ষণ এবং বন্যার পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কতোখানি দায়ী, বিজ্ঞানীরা তা বোঝার চেষ্টা করছেন। তবে ২০১০ সালের বন্যার বিশ্লেষণ বলে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের দায় অনেক। সে বছরের বন্যার মূল কারণও ছিলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে হওয়া ভারী বর্ষণ। ঐ বছর একই কারণে রাশিয়ায় চূড়ান্ত দাবদাহ দেখা দিয়েছিলো। ২০২১ এর একটি গবেষণা অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার বর্ষা তীব্র এবং অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ৫% বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

 

২০১০  থেকে পাকিস্তান নিয়মিত বন্যা, দাবদাহ এবং দাবানলের মুখোমুখি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফল চরমভাবে ভোগ করছে পাকিস্তান। প্রতি বছর চরম কোনো দুর্যোগের মুখোমুখি হওয়া নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যেসব এলাকার মানুষ নিজেদেরকে সুরক্ষিত মনে করতেন, তাঁরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।  যে দুর্যোগের সঙ্গে পরিচয় নেই, তার জন্য মানুষের প্রস্তুতি থাকে না বলে অনেক সময়েই এমন জায়গাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হচ্ছে।

 

প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা এবং বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের ফলে ঘটা একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রও পাকিস্তানের বন্যার জন্য কিছু মাত্রায় দায়ী হতে পারে বলে মনে করেন আবহাওয়াবিদ স্কট ডানকান। তবে এটি কীভাবে বন্যার সঙ্গে সম্পর্কিত তা এখনও ভালোভাবে বলা যাচ্ছে না। ডানকান আরো জানান, এ বছরের চরম দাবদাহের সম্ভাবনাও ৩০ গুণ বেশি বেড়েছিলো বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে। ২০১৫ সালের দাবদাহের পেছনের কারণও একই ছিলো। উন্নয়ন ও জল্বায়ু বিশেষজ্ঞ আলী তৌকির শেখ বলেন, “আজকে আপনারা যা দেখছেন তা জলবায়ু পরিবর্তনের দিকে নজর না দিলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অপুষ্টি এবং রোগের কী চেহারা অপেক্ষা করছে তার ট্রেইলার মাত্র।”

 

 

পাঞ্জাবের মুজাফফরগড় শহরে দুই শিশুকে নিয়ে পানি পার হচ্ছেন এক মা। ছবি: এপি

 

 

শাসকদের দায়

বোঝাই যাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন পাকিস্তানের বন্যার এই চূড়ান্ত রূপের জন্য দায়ী। কিন্তু এককভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেদের ভূমিকাকে আড়াল করাটাও পাকিস্তানের মত দেশগুলোতে নিয়মিতই ঘটছে। বৈশ্বিক জলবায়ূ পরিবর্তন ও উষ্ণায়ন নিয়ে যেমন আন্তর্জাতিক স্তরে কথা বলা ও দরকষাকষি করা প্রয়োজন, একই ভাবে প্রয়োজন দুর্যোগ যথাসম্ভব না ঘটতে দেয়া এবং ঘটলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা। পাকিস্তানের দুর্যোগ এমন প্রলয়ঙ্কারী হবার পেছনে সরকারের ভূমিকা নিয়েও আলাপও তুলছেন অনেকেই।

 

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলবিদ আয়েশা সিদ্দিকী মনে করেন, “সব দুর্যোগই আসলে নির্মিত। সমাজ এবং মানুষ একে নির্মাণ করে।” আয়েশা ব্যাখ্যা করেন, কাঠামোগত অসমতা, নীতিনির্ধারণে দুর্বলতা এবং বড় মাত্রার অবকাঠামো প্রকল্পের ওপর জোর দেওয়ার ফলেই পাকিস্তান মূলত বন্যার জন্য শোচনীয় রকমের প্রস্তুতিহীন ছিলো।  পাকিস্তানের ২০১০ সালের ভয়াবহ বন্যাকালীন সাড়া দান বিষয়ে গবেষণা করেছেন আয়েশা সিদ্দিকী।

 

 

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলবিদ আয়েশা সিদ্দিকী মনে করেন, “সব দুর্যোগই আসলে নির্মিত। সমাজ এবং মানুষ একে নির্মাণ করে।” আয়েশা ব্যাখ্যা করেন, কাঠামোগত অসমতা, নীতিনির্ধারণে দুর্বলতা এবং বড় মাত্রার অবকাঠামো প্রকল্পের ওপর জোর দেওয়ার ফলেই পাকিস্তান মূলত বন্যার জন্য শোচনীয় রকমের প্রস্তুতিহীন ছিলো।  

 

 

পাকিস্তানের ২০১০ সালের ভয়াবহ বন্যাকালীন সাড়া দান বিষয়ে গবেষণা করেছেন আয়েশা সিদ্দিকী।

 

পাকিস্তানের উন্নয়ন পরিকল্পনার মতো দেশটির উপনিবেশবাদী ইতিহাসও ঘন ঘন বন্যা হওয়ার পেছনে কিছু মাত্রায় দায়ী। আরিফ হাসান এবং প্রয়াত সাংবাদিক আমেনাহ আজম আলীর বই দ্য এনভায়রনমেন্টাল রিপারকাশনস অফ ডেভেলপমেন্ট ইন পাকিস্তান এ লেখকরা উল্লেখ করেন, ঔপনিবেশিক আমলে ভারতের উন্নয়ন উদ্যোগের পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো চারটি:

 

  • ব্রিটেনের শিল্পায়নের প্রয়োজন মেটাতে প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার
  • ব্রিটেনের বাণিজ্যিক এবং ব্যক্তি ভোক্তার প্রয়োজন মেটাতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো
  • ভারতের আঞ্চলিক শিল্পায়ন খাতের উন্নতি অবরুদ্ধ করা এবং ইতোমধ্যে বিদ্যমান শিল্প উদ্যোগ ধ্বংস করা
  • সাম্রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি।

 

স্বাধীনতার পরেও পাকিস্তান সরকার এই ধারা অব্যাহত রাখে। যার ফলে বন, হ্রদ এবং খনির মতো প্রাকৃতিক সম্পদের একটি বিরাট অংশ পুরনো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে সরকারের মালিকানায় চলে যায়। এর মাধ্যমে ব্যাপক মাত্রায় এই সম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহার সম্ভব হয়। যার পরিণামে দেশটিতে এখন গোটা অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে কম বনভূমি অবশিষ্ট আছে। বন্যার তোড়কে প্রধানত যা রুখে দেয় তা হলো গাছ এবং বন। যথেচ্ছভাবে বন উজাড়ের ফলে পাকিস্তানে যে কোন পানির ঢলই প্রলঙ্কারী চেহারা পেয়েছে।  স্বাধীনতার সময়ে দেশটির বনের পরিমান ছিল ৩৩ ভাগ, এখন তা দাঁড়িয়েছে ৫ ভাগে।

 

 

বন উচ্ছেদ এবং উন্নয়ন প্রকল্প সাম্প্রতিক বন্যার একটি বড় কারণ। ফাইল ছবি, ডেইলি পাকিস্তান।

 

 

বন উচ্ছেদের পাশাপাশি বন্যার আরেকটি বড় কারণ হলো খাল ও বাঁধের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। এর ফলে বাঁধ পানির তোড় ঠেকাতে পারে না এবং আশেপাশের ভূমি এলাকা ভেসে যায়। গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন বিভিন্ন বাঁধের শোচনীয় অবস্থা দেখিয়েছে। একই অবস্থা দেখা গিয়েছিলো ২০১০ এর বন্যার সময়েও। সেবার শুধু সিন্ধু প্রদেশেই জলের তোড়ে বেশ কয়েকটি বাঁধ ধসে পড়েছিলো। নির্মাণ ও তত্ত্বাবধানে এই দুর্নীতি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বন্যার সহজ শিকারে পরিণত করেছে।

 

 

বন উচ্ছেদের পাশাপাশি বন্যার আরেকটি বড় কারণ হলো খাল ও বাঁধের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। এর ফলে বাঁধ পানির তোড় ঠেকাতে পারে না এবং আশেপাশের ভূমি এলাকা ভেসে যায়। গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন বিভিন্ন বাঁধের শোচনীয় অবস্থা দেখিয়েছে। একই অবস্থা দেখা গিয়েছিলো ২০১০ এর বন্যার সময়েও। সেবার শুধু সিন্ধু প্রদেশেই জলের তোড়ে বেশ কয়েকটি বাঁধ ধসে পড়েছিলো।

 

 

এমনকি নির্মাণযজ্ঞও বহুক্ষেত্রে বন্যার তীব্রতাকে ঘনীভূত করেছে। গত ত্রিশ বছরে যেসব রাস্তা এবং বাণিজ্যিক অবকাঠামো তৈরি হয়েছে তা পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথের জন্য যথেষ্ট অনুকূল নয়। এর ফলে নদী অন্য পথে প্রবাহিত হয় এবং বর্ষায় আশেপাশের এলাকা জলের তোড়ে ভেসে যায়। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন স্থাপনার ফলে একইভাবে জলের ধারা বদলে বন্যার প্রকোপ বেড়েছে।

 

ইতিহাস বলে, কৃষকরা সাধারণত নদীর একাবারে তীরে বসতি গড়তেন না। বাংলাদেশ বা আসামেও চিত্রটা একই। গত ৩০ বছরে নদীতীরবর্তী প্লাবনভূমিতে মানুষের বসবাস বেড়েছে, যার একটা মুখ্য কারণ ভূমিহীনতা, দারিদ্র্য এবং কর্মসংস্থানের অভাব। জনসংখ্যা বৃদ্ধিও একগটা কারণ। নদীর তীরে বহু কলকারখানা এবং গুদামও গড়ে উঠেছে, যা মৌসুমী বন্যায় শুরুতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

দৈনন্দিন যে-কোনো ঘটনারই সাধারণত একটি রাজনৈতিক কারণ এবং ফলাফল থাকে, এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগও এর বাইরে নয়। বৈদেশিক নীতি গবেষক মাদিহা আফজাল বলেন, “এ বছর পাকিস্তান ক্রমাগত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে: অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, এবং এখন প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এর সবকিছুর মূলেই রয়েছে রাজনৈতিক সংকট।” তিনি দেখিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং ভূতপূর্ব প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মধ্যেকার টানাপোড়েন বন্যাকবলিত মানুষকে ভুগিয়েছে। যেমন, উত্তরবর্তী খাইবার পাখতুনখা প্রদেশটি ইমরান খানের রাজনৈতিক দলের আওতাভুক্ত। এ অঞ্চলটি বন্যায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রধানমন্ত্রী সেখানে গেছেন মাত্র গত ২৯ আগস্ট সোমবার। 

 

 

বালুচিস্তানের জাফরাবাদে অস্থায়ী ক্যাম্পে বাস করছেন বন্যাপীড়িত মানুষেরা। ছবি: এএফপি

 

 

শাসকরা বন্যার গোটা দায় চাপাচ্ছেন বিশ্বের ঘাড়ে। সেখানে সত্যতা আছে। কিন্তু তাঁরা এই সত্ আড়াল করতে পারেন না যে, পাকিস্তান নিজেই বন ধ্বংস, নদী বিনষ্ট, প্লাবন ভূমিতে হস্তক্ষেপ এবং  অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবেশগত বিপর্যয়কে তীব্রতর করছে। প্রতি বছর ২৭,০০০ হেক্টর বন উজাড় হচ্ছে পাকিস্তানে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের ২০২০ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান বন উচ্ছেদের দিক থেকে এশিয়ায় দ্বিতীয়। অন্যদিকে দুর্নীতি, সামরিকায়ন ইত্যাদির কারণে বন্যা প্রতিরোধ বা ত্রাণের তহবিল কমে যাচ্ছে। অগণতান্ত্রিক শাসনের কারণে জনগণের স্বার্থ, পরিবেশ, নদী ইত্যাদি বিষয়ে স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক একটা পরিকল্পনাও কঠিন হয়ে উঠছে। কাজেই, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের দায়ের বিষয়টি সত্য হলেও পরিবেশ বিপর্যয় এবং ক্ষয়ক্ষতি প্রশমনে ব্যর্থতার বৃহত্তর দায় সরকারের ওপরেই বর্তায়।

 

পাকিস্তানি-ব্রিটিশ ঐতিহাসিক এবং সমাজকর্মী তারিক আলীর মতে, প্রশ্নটা হলো আবহাওয়া বিপর্যয়ের ফলে উদ্ভূত সামাজিক সংকটগুলোকে মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ সরকার নেয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “পাকিস্তানের সামরিক এবং বেসামরিক সরকার কেন সাধারণ জনতার জন্য একটা সামাজিক অবকাঠামো, একটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেনি? ধনীদের জন্য বিষয়টা সহজ। তাদের পালানোর পথ আছে। তারা দেশ ছাড়তে পারে। তারা হাসপাতালে যেতে পারে। তাদের কাছে যথেষ্ট খাবার আছে। কিন্তু দেশের সিংহভাগ মানুষের অবস্থা তা নয়।”

 

 

পাকিস্তানি-ব্রিটিশ ঐতিহাসিক এবং সমাজকর্মী তারিক আলীর মতে, প্রশ্নটা হলো আবহাওয়া বিপর্যয়ের ফলে উদ্ভূত সামাজিক সংকটগুলোকে মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ সরকার নেয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “পাকিস্তানের সামরিক এবং বেসামরিক সরকার কেন সাধারণ জনতার জন্য একটা সামাজিক অবকাঠামো, একটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেনি? ধনীদের জন্য বিষয়টা সহজ। তাদের পালানোর পথ আছে। তারা দেশ ছাড়তে পারে। তারা হাসপাতালে যেতে পারে। তাদের কাছে যথেষ্ট খাবার আছে। কিন্তু দেশের সিংহভাগ মানুষের অবস্থা তা নয়।”

 

 

পাকিস্তানি-ব্রিটিশ ঐতিহাসিক এবং সমাজকর্মী তারিক আলীর মতে, প্রশ্নটা হলো আবহাওয়া বিপর্যয়ের ফলে উদ্ভূত সামাজিক সংকটগুলোকে মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ সরকার নেয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “পাকিস্তানের সামরিক এবং বেসামরিক সরকার কেন সাধারণ জনতার জন্য একটা সামাজিক অবকাঠামো, একটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেনি? ধনীদের জন্য বিষয়টা সহজ। তাদের পালানোর পথ আছে। তারা দেশ ছাড়তে পারে। তারা হাসপাতালে যেতে পারে। তাদের কাছে যথেষ্ট খাবার আছে। কিন্তু দেশের সিংহভাগ মানুষের অবস্থা তা নয়।”

 

পাকিস্তানে বিধ্বংসী বন্যা এটাই প্রথম নয়। বন্যার ইতিহাসের দিকে তাকালে ধারণা করা যায়, এটি শেষ ভয়াবহ বন্যাও নয়। ভবিষত্যের গর্ভে কী অপেক্ষা করছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বলা যায় যে, এ ধরনের ইপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে- যার দায় অনেকাংশেই পশ্চিমা বিশ্ব, সরকারী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, নানা উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভূতপূর্ব ব্রিটিশ রাজ। তবে এদের কেউই এ ঘটনার চূড়ান্ততম ফল ভোগ করেনি বা করছে না- আর এখনকার মতো ভবিষ্যতেও ভুক্তভোগী হবে সন্তানকে কাঁধে চাপিয়ে অক্ষত রাখতে চাওয়া সাধারণ মানুষ।

 

সুত্র: বিবিসি নিউজ, দ্য ডন, দ্য গার্ডিয়ান, ভোক্স, এনডিটিভি, রিলিফ ওয়েব, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, পাকিস্তান টুডে।