• মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১
Top Stories
কে বাঁচে, কে মরে, কে সিদ্ধান্ত নেয়? আজ প্রেস ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম Shahidul Alam’s exhibition opens at Rubin Museum in New York Photojournalist Shahidul Alam—who served time for his activism—gets retrospective at the Rubin Museum On Life in Prison সামরিক নজরদারিতে সাংবাদিকতা সাংবাদিকের বয়ানে সংবাদমাধ্যমের সরকার তোষণ জনস্বার্থে সাংবাদিকতার অতীত ঐতিহ্যকে পুনর্বহাল করতে হবে আইসিটি আইনে মামলা ও রিমান্ডের খোঁড়াযুক্তি! অভিনব সংকটে বাংলাদেশের গণমাধ্যম উন্নতিটা অসুস্থ, এড়ানোর উপায় কি করোনার নতুন ধরণ মোকাবিলা; কোন পথে বাংলাদেশ কোভিডে চড়া বাজারদর; টিসিবি এসব কী করছে! নদীর জন্য জীবন দিয়েছেন বাংলাদেশের কৃষকরা প্রচলিত আইনে ক্ষতিপূরণ সম্ভব না: পুলিশের গুলিতে পঙ্গু কাঞ্চন ইসরায়েল প্রসঙ্গ: বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নৈতিক চরিত্র কি বদলে যাচ্ছে সিলেটের সাংবাদিক নিজামুল হক লিটনের আত্মহত্যার নেপথ্যে ইসরায়েল প্রসঙ্গ: বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নৈতিক চরিত্র কি বদলে যাচ্ছে মহামারিতে স্বল্পমূল্যের চিকিত্সাসেবা বলতে চিকিৎসকরা কি এই বুঝিয়েছিলেন? ইসরায়েলে প্রদর্শনী: ছবি ফিরিয়ে নিলেন শহিদুল আলম ও গিডিয়ান মেন্ডেল কোনোভাবেই চুপ থাকতে রাজি নন সাংবাদিক জীবন ৬ দিনে ৯ মামলা: পুলিশি নির্যাতনের বিচার চান সাংবাদিক ইফতেখার বস্তুনিষ্ঠ স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকার গোটা সমাজের গণতান্ত্রিক মুক্তির জন্যও অপরিহার্য টিকাপ্রদানে বৈষম্যের শিকার শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী পেশী প্রদর্শনে আমলাতন্ত্র আগের চেয়েও বেপরোয়া, মনে করেন ৯২.৬% সাংবাদিক যেন কেটিএস ফিরে এসেছে সেজান গ্রুপের কারখানায় আগামীর কর্মসংস্থান: অচিরেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে নতুন যেসব পেশা আগামীর কর্মসংস্থান: জমজমাট যেসব পেশা অচিরেই যাবে বাতিলের খাতায় আগামীর কর্মসংস্থান: গার্মেন্টসে সংকটে নারী শ্রমিকের পেশাগত ভবিষ্যৎ ‘বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জরুরিভিত্তিতে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন’ সেজান-সজীব গ্রুপের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: লাশ হস্তান্তরে সমন্বয়হীনতা, স্বজনদের দুর্ভোগ মাল্টিমিডিয়া গ্যালারি অফ দ্রিক

অভিনব সংকটে বাংলাদেশের গণমাধ্যম

বৈশাখ ৩, ২০২১ / Driknews

অভিনব সংকটে বাংলাদেশের গণমাধ্যম

গোলাম মোর্তোজা

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বর্তমান সংকট অভিনব। কেন বলছি অভিনব, তা আশা করি এই লেখার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হবে। সংকটের ধরন বিশ্লেষণ করলে তিনটি চিত্র পাওয়া যায়।

১. সরকারের কর্তৃত্বপরায়ণ নীতি,

২. সাংবাদিকদের বিভাজন এবং

৩. সাংবাদিক নেতাদের আপোস বা আত্মসমর্পণ।

কর্তৃত্বপরায়ণ নীতি প্রসঙ্গে শুরুতেই একটি কথা বলে নেয়া দরকার মনে করছি। সরকার এবং সরকার সংশ্লিষ্টরা জোর দিয়ে বলেন, সবাই সব কথা লিখছে বা বলতে পারছে। কাউকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। আরও সরাসরি বলা হয়, আপনি বা আপনারা তো সবই বলছেন, লিখছেন। আপনাকে বা আপনাদেরকে তো বাধা দেওয়া হচ্ছে না। আবার অনেকেই প্রশ্ন করেন, আপনারা কী সব কথা বলতে পারছেন, লিখতে পারছেন?

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নটি অত্যন্ত কঠিন এবং উত্তর দেয়াটা চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সরল উত্তর হতে পারে এমন - যে সমাজে মুক্তমনে বলা বা লেখা যায়, সে সমাজে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় না। যেখানে এই প্রশ্ন আছে, সেখানে সমস্যা আছে। যদিও একথা সত্যি যে, সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। কারও কারও বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে। যেমন কাজল, কিশোর, মুশতাক...। সামনে আছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। যে আইনে যেকোনো সংবাদকর্মী বা অন্য যেকোনো পেশার যে কাউকে যে কোনো সময় গ্রেফতার করা যায়। পুলিশের একজন সাব ইন্সপেক্টরেরও যদি মনে হয়, ‘অপরাধ করেছে বা করতে পারে’ তাহলেই তিনি গ্রেফতার করতে পারবেন। কাজলের নিখোঁজ থাকা, মুশতাকের ইলেকট্রিক শক-মৃত্যু, কিশোরের কান ফাটানোর তাৎপর্য কী? তাৎপর্য হলো ‘দেখানো’। এই দেখানোর মানে হলো ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা। একজনকে মেরে বহুজনের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া। যার নাম সেলফ সেন্সরশিপ। এটা লিখব বা বলব কিনা? লেখা বা বলা যাবে কিনা? লিখে বা বলে বিপদে পড়তে হবে কিনা? পরিণতি কাজল-মুশতাক-কিশোরের মতো হবে না তো? এভাবে বলা বা লেখার দরকার নেই, নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে হচ্ছে। অধিকাংশই ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ নীতিতে লিখছে। তাতে পাঠক বা দর্শকের চাহিদা মিটছে না। পাঠক, দর্শক ঝুঁকে পড়ছে বিদেশি গণমাধ্যমের দিকে।



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে টানানো বাংলাদেশ ফেডারেল জার্নালিস্ট ইউনিয়নের ব্যানার। ডিসেম্বর ২০১৮।

- শহিদুল আলম/দৃক/মেজরিটি ওয়ার্ল্ড

সাংবাদিকরা বিশেষ করে সাংবাদিকদের সংগঠন ও নেতারা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে দৃষ্টিকটুভাবে মিশে গেছেন। তারা কেউ আওয়ামী লীগ, কেউ বিএনপি, কেউ জামায়াতের সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। নিজেদের মধ্যে ঐক্য তো দূরের কথা বিভাজন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। সাংবাদিকদের স্বার্থ বা সাংবাদিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করেন না। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন তারা সেই সরকারের কর্মীতে পরিণত হন।

অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ‘সরকারি সাংবাদিক’-এর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের কাছে সত্য তথ্য উপস্থাপন বা নির্মোহ বিশ্লেষণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো সরকারের গুণকীর্তন। রাতে ভোট বা ভোটারবিহীন ভোটের প্রসঙ্গ আসলে তারা ‘উন্নয়ন’-এর গল্প বলেন। দুর্নীতি চাপা দিতে চান ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে’ বলে। সাধারণ মানুষ সাদা চোখে যা দেখেন, তারা টেলিভিশনে গিয়ে বলেন তার সম্পূর্ণ উল্টো কথা। মানুষ ভোট দিতে যায়নি বা যেতে পারেনি। কিন্তু তারা টেলিভিশনের পর্দায় উপস্থিত হয়ে বলেন ‘নির্বাচন ভালো’ হয়েছে। সাংবাদিকতার মূলনীতি সত্যের পক্ষ ত্যাগ করে তারা অসত্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই আপোসকামীতার ফলে নেতারা নানাভাবে হয়তো লাভবান হচ্ছেন। বিপজ্জনকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গণমাধ্যম। গণমাধ্যম তার সবচেয়ে বড় সম্পদ বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনআস্থা হারিয়ে ফেলছে। নেতাদের লাভের বিনিময়ে গণমাধ্যম ও প্রকৃত সংবাদকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সরকারের কর্তৃত্ববাদী নীতিতে একদিকে তৈরি করা হয়েছে ভয়ের সংস্কৃতি, অন্যদিকে সাংবাদিকদের  রাজনৈতিক বিভাজন ও চাওয়া-পাওয়ার লোভে আপোস। যা বাংলাদেশের গণমাধ্যমের এক ভিন্ন রকমের সংকটজনক বাস্তবতা। পাঠক-দর্শক কমে যাওয়ার পাশাপাশি কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আয় কমে গেছে। সংবাদকর্মীদের জীবন হয়ে পড়েছে বিপণœ। এই অভিনব সংকট থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় সত্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সত্য বলা, লেখা। তাতে জনআস্থা বাড়তো, জনআস্থা বাড়লে আয় বাড়তো। আয় বাড়লে লাভবান হতেন সংবাদকর্মীরা। কিন্তু তার কোনো লক্ষণ দৃশ্যমান নয়। টানেলের শেষ মাথায় আলোর দেখা মিলছে না। স্রোতের প্রতিকূলে ঝুঁকি নিয়ে কেউ কেউ সত্য লিখছেন, বলছেন। যা চিহ্নিত হচ্ছে ‘সাহস’ হিসেবে। অল্প কয়েকজনের ‘সাহসে’ গণমাধ্যমের ইমেজ পুনরুদ্ধার হচ্ছে না। খাদের কিনার থেকে তলদেশের দিকে যাত্রা ঠেকানো যাচ্ছে না।

 

গোলাম মোর্তোজা, সম্পাদক: ‘সাপ্তাহিক’।

মুন্নী রহমান

সরকার তো স্থানীয় পরিষদ নির্বাচন করল, গ্রামে সমানে মিছিল মিটিং হচ্ছে , কিছুইতো বুঝতে পারছি না একদিকে লক-ডাউন অন্যদিকে নিরবাচন ?

এভাবেই আমাদের পাশে থাকুন