বাইডেন জিতলেও সন্তুষ্ট করতে পারেননি

সরাসরি তিন বিতর্কের প্রথমটিতে মঙ্গলবার মুখোমুখি হলেন দুই প্রার্থী। পরের দুটি বিতর্ক এ মাসের ১৫ ও ২২ তারিখে। প্রথম বিতর্কের পর সিএনএনের তাৎক্ষণিক জরিপে ৬০% অংশগ্রহণকারী জানান, বাইডেন ভালো করেছেন। ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেন ২৮%। বিতর্কের আগে তাঁরাই বাইডেনের পক্ষে ছিলেন ৫৬% এবং ট্রাম্পের পক্ষে ৪৩%।

এমন বিতর্ক কেউ প্রত্যাশা করেনি। কেউ ভাবেনি নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই আগুন ধরিয়ে দেবেন। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনী বিতর্ক তাঁর বেপরোয়া ব্যবহারের কারণে এতটাই অরাজক ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে যে কেউ কেউ একে ‘আমেরিকার জন্য গভীর লজ্জার এক ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছেন। কোনো কোনো মহল থেকে অবশিষ্ট বিতর্কগুলো বাতিল করার দাবিও উঠেছে।

বিতর্কের প্রথম মুহূর্ত থেকে ট্রাম্প নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বারবার প্রতিপক্ষের কথা ছিনিয়ে নিজে বলতে থাকেন। বিতর্কের সঞ্চালক ফক্স নিউজের উপস্থাপক ক্রিস ওয়ালেস তাঁকে বিতর্কের সর্বসম্মত নিয়মবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেও থামাতে পারেননি। ‘মি. প্রেসিডেন্ট, আপনি বাধা দিচ্ছেন, নিয়ম মানছেন না,’ এ কথা বলেও কোনো ফল মেলেনি। একপর্যায়ে বাইডেন গলা উঁচিয়ে বলেন, ‘আপনি কি একটু চুপ করবেন?’ তিনি ট্রাম্পকে ‘ক্লাউন’ বলেও ভর্ৎসনা করেন।

বিতর্কের উদ্দেশ্য ছিল উভয় প্রার্থীর কাছ থেকে তাঁদের সাফল্য-ব্যর্থতার একটি খতিয়ান নেওয়া এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে প্রধান জাতীয় সমস্যাগুলো সমাধানে তাঁরা কী করবেন, সে বিষয়ে একটি সম্যক ধারণা পাওয়া। কিন্তু কোনো প্রশ্নেরই অর্থপূর্ণ জবাব পাওয়া যায়নি। কার্যত প্রায় পুরোটা সময় ট্রাম্প পাগলা হাতির মতো পুরো মঞ্চ দাপিয়ে বেড়ালেন। ফলে, তেমন কিছু না করেও অনায়াসে বিতর্কে বিজয়ী হলেন জো বাইডেন।বিজ্ঞাপন

এই সন্ধ্যার সবচেয়ে স্মরণীয় ও নিন্দনীয় মুহূর্ত ছিল বিতর্কের একদম শেষে। ক্রিস ওয়ালেস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বর্ণবাদী দাঙ্গার সঙ্গে যুক্ত শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদী গ্রুপগুলোকে নিন্দা করার আহ্বান জানান। তাঁর প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘নিন্দা আমি করব, কিন্তু আমি তো দেখি ডান নয়, অধিকাংশ সহিংসতা হচ্ছে বামপন্থীদের হাতে।’ শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের নিন্দা করার দাবি পুনরায় উঠলে ট্রাম্প তারস্বরে প্রশ্ন করেন, ‘কাকে নিন্দা করতে হবে, একজনের নাম করুন?’ জবাবে বাইডেন ফ্যাসিবাদী হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র মিলিশিয়া গ্রুপ ‘প্রাউড বয়েস’-এর নাম করলে ট্রাম্পের জবাব ছিল, ‘আমি তাদের “সরে দাঁড়াতে” ও “অপেক্ষা করতে” বলব।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কোনো ফ্যাসিস্ট দলকে এমন খোলামেলাভাবে সময়মতো হামলার জন্য অপেক্ষা করার নির্দেশ দেবেন, এ ছিল সম্পূর্ণ অভাবিত এক ঘটনা। ট্রাম্পের এই নির্দেশ শোনামাত্রই প্রাউড বয়েজ ‘সরে দাঁড়াও ও অপেক্ষা করো’ স্লোগান লিখে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এই গ্রুপের নেতা হিসেবে পরিচিত জো বিগস সোল্লাসে জানান, ট্রাম্পের কথা তাঁদের জন্য ‘অন্য পক্ষকে আঘাত হানার প্রস্তুতির নির্দেশ’। এই গ্রুপের ওয়েবসাইটে এক তাৎক্ষণিক ভিডিওতে ঘোষণা করা হয়, ‘হ্যাঁ স্যার, আমরা প্রস্তুত’।

দ্বিতীয় নিন্দনীয় মুহূর্ত ছিল নির্বাচনী ফলাফল মানতে ট্রাম্পের অস্বীকৃতি। নির্বাচনী অনিয়মের পুরোনো ও অপ্রমাণিত অভিযোগ তুলে তিনি নিজের সমর্থকদের ভোট প্রদানের ওপর কড়া নজর রাখার পরামর্শ দেন। ‘অভাবিত প্রতারণা হবে’, তিনি সাবধান করে দেন এবং বলেন নির্বাচনের ফলাফল সুপ্রিম কোর্টেই নির্ধারিত হবে। অন্যদিকে জো বাইডেন সরাসরি দর্শকদের দিকে তাকিয়ে সবাইকে ভোট প্রদানে উৎসাহ দেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প সব সময় চেষ্টায় আছেন বিভেদ বাড়াতে। ‘সবাইকে শান্ত হতে বলার পরিবর্তে তিনি আগুনে আরও তেল ঢালতে আগ্রহী।’

Who is the best football player in the world

View Results

Loading ... Loading ...

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।